শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, ভুঞাপুর, টাংগাইল এর ইতিহাসটি অত্যন্ত গর্বিত এবং সমৃদ্ধ। এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন এ্যাড. আঃ সালাম পিন্টু, যিনি ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।
কলেজের প্রতিষ্ঠা এবং প্রেক্ষাপট
১৯৯৫ সালে, ভুঞাপুর অঞ্চলে মেয়েদের জন্য একটি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ওই সময় সিলেবাস এবং শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আধুনিক ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য এ্যাড. আঃ সালাম পিন্টু একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, একজন নারী যদি শিক্ষিত হন, তাহলে সমাজ ও পরিবারে তার ভূমিকা অপরিসীম। এভাবেই তিনি শহীদ জিয়া মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময়, এলাকার শিক্ষার প্রতি অভাব ছিল এবং সেখানে মহিলাদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। এই কারণে এ্যাড. আঃ সালাম পিন্টু শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের মাধ্যমে বিশেষভাবে মেয়েদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্যমের ফলস্বরূপ ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রথমে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
কলেজটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের একটি শক্তিশালী সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করা। শুরুতে কলেজে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু খুব শীঘ্রই তা বাড়তে থাকে। কলেজটি শুধু নারীদের উচ্চশিক্ষায় প্রেরণা দেয়নি, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথও প্রশস্ত করেছে।
কলেজের পঠনপাঠন ও প্রগ্রেস
শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে তার শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নত হতে থাকে। প্রথমে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায়িক শাখায় কোর্স চালু হয়। কলেজটির শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং মনোযোগী পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়। এছাড়া, কলেজে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব এবং বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী শিক্ষা পাচ্ছিল।
কলেজের সুনাম এবং উন্নয়ন
কলেজটির ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু করে আজ অবধি সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ পাসের হার, উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক উন্নয়নে অবদান ও শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করার জন্য এই কলেজটি বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া, কলেজটি সমাজসেবা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং পরিবেশ সুরক্ষায়ও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে।
কলেজটির সুনামের পেছনে আছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, এবং অধ্যক্ষের (বর্তমান অধ্যক্ষ) নেতৃত্বের ভূমিকা। এই কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে।
কলেজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে আরো আধুনিক পাঠদান ব্যবস্থা চালু, নতুন নতুন বিষয়বস্তু যোগ করা, এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এছাড়া, কলেজের অবকাঠামো এবং পরিবেশ আরও উন্নত করার জন্য প্রস্তাবিত কিছু কার্যক্রম পরিকল্পিত হয়েছে।
উপসংহার
শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের ইতিহাস শুরু হয়েছে ১৯৯৫ সালে, এবং আজ এই কলেজটি এক একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো টাঙ্গাইল জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় আলোকিত করেছে। প্রতিষ্ঠাতা এ্যাড. আঃ সালাম পিন্টুর দৃঢ় বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রেরণার ফলস্বরূপ আজ কলেজটি সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে।